চট্টগ্রাম পটিয়া কক্সবাজার মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক-১০

কাউছার আলম,পটিয়া :

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ডাকাতির প্রস্ততিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম পটিয়া পৌর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের সেয়ান পাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের থানা মহিরা এলাকার আবদুস সবুরের ছেলে মো. ইমরান হোসেন সাজু(২৪), মেহেরআটি এলাকার হাবিব হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর(৩০), পশ্চিম থানা মহিরা এলাকার হারুনের ছেলে মো. শাহজাহান জুয়েল(২৬), কুসুমপুরা নেছার চেয়ারম্যানের বাড়ির জাকির হোসেনের ছেলে মো. মাইনুদ্দিন(২৬), একই এলাকার মো. নাসিরের ছেলে মো. সজীব(২৪), মেহেরআটি এলাকার কেএম জসিম উদ্দিনের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন জিসান(২৪), জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের পাইরোল এলাকার কামাল উদ্দিন কন্ট্রাকটরের ছেলে সবুজ আলম (৩২), হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন এলাকার মামুনুর রশীদের ছেলে মো. আজাদ (২৭), থানা মহিরা এলাকার আলম মেম্বারের বাড়ির আবদুল করিমের ছেলে মো. বিজয় (২১), পটিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়াডের ছিবাতলি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. জয় (১৯)।  এসময় অজ্ঞাতনামা আরো ৮/৯ জন ডাকাত দলের সদস্য রাতের অন্ধাকারে দৌড়ি পালিয়ে গেছে।

পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃত ১ নং আসামী ইমরান হোসেন সাজুর পরিহিত প্যান্টের পিছনে কোমরে গোজা অবস্থা হতে ১টি লোহার তৈরি চাপাতি, ডান পকেট হতে ১টি টিপ ছোরা, ৩ নং আসামী শাহজাহান জুয়েলের হাত থেকে ১টি কাঠের হাতলযুক্ত লোহার চাকু, ৪ নং আসামী মাইনুদ্দিনের পরিহিত ট্রাউজারের পিছনে কোমড়ে গোজা অবস্থায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো ১টি কাঠের হাতলযুক্ত লোহার চাকু,৫ নং আসামী সজীবের পরিহিত লুঙ্গির পিছনে কোমরে গোজানো অবস্থায় কাগজ দ্বারা মোড়ানো ১টি কাঠের হাতলযুক্ত চাপাতি, ৮ নং আসামী আজাদের হাত হতে কাঠের হাতলসহ লোহার বাঁকানো দা, ৯ নং আসামী বিজয়ের হাত হতে প্লাস্টিকের হাতল যুক্ত ১টি লোহার তৈরী সরু স্টিক/ব্যাটন, ১০ নং আসামী জয়ের ডান হাত হতে ১টি লোহার তৈরী সাবল উদ্ধার করা হয়। এসময় ২ নং আসামী আলমগীরের দেখানো ও হেফাজত হতে ১টি সবুজ রংয়ের রেজিস্ট্রেশন বিহীন পুরাতন সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আসামীগণ উক্ত সময়ে উল্লেখিত আলামত সহ ঘটনাস্থলে সমবেত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পুলিশকে জানায় যে, ধৃত আসামীগণ সহ পলাতক আসামীরা চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে জব্দকৃত আলামত সহ ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছিল। ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা আরো জানান, বর্ণিত আসামীগণ সহ পলাতক আসামীরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্নস্থানে মহাসড়কে ডাকাতি করে। ডাকাতির লুণ্ঠিত মালামাল ৭ নং আসামী সবুজ আলমের হেফাজতে তার নিজ বাড়ীতে এবং ধৃত ৮ নং আসামী আজাদেন হেফাজতে তার নিজ বাড়ীতে রয়েছে। সে সূত্র ধরে পুলিশ বুধবার দুপুরে ৭ নং আসামী সবুজ আলমের বসতঘরে উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী সবুজ আলমের দেখানোমতে এবং আসামীদের সনাক্তমতে আসামী সবুজ আলমের বসতঘরের পাশে স্টোর রুম হতে ৪টি স্টিলের তৈরি সিএনজির অটোরিক্সার দরজা, ১৮টি কালো ও সিলভার রংয়ের গ্যাস লিফট, ১টি কার্টুনে মোড়ানো হালকা ট্রলি ব্যাগ, ১টি মনিটর, স্ক্রু রয়েল প্লাগ, ক্যালাম ৩৫ প্যাকেট, লগো ১ প্যাকেট, একটি লোহার গ্রীল কাটার মেশিন, ১টি সাদা রংয়ের প্যাকেটজাত এয়ার কন্ডিশনার (এসি) জব্দ করে পুলিশ এবং ৮ নং আসামী আজাদের বসতবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে ৮ নং আসামীর দেখানোমতে ৫ বস্তা চাউল, ৩টি খালি গ্যাস সিলিন্ডার, ২টি বাইসাইকেল, ৩টি এ্যালমুনিয়ামের ফ্রেম এর বান্ডিল জব্দ করেন পুলিশ। উপরোক্ত আলামত জব্দকালে আসামীরা আলামতের বৈধতা সংক্রান্তে কোন কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারে নাই তাই তাদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে পটিয়া থানায় উপপরিদর্শক গোলাম সরওয়ার মামলা রাজু করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, এসব ডাকাত সদস্যরা চট্টগ্রাম পটিয়া কক্সবাজার মহাসড়ক, তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাড়িতে, হাসপাতালসহ জনসমাগম স্থলে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ছিনতাই এবং ডাকাতি করে থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাত চক্রের টিমটিকে আটক করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ও চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img