নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)এর চলমান প্রকল্প ও কাজ সম্পন্ন হওয়া একুনে ১৫টি প্রকল্পের গুনগত কাজের মান নির্ণয় এবং প্রকল্পগুলোর সরকারী অর্থ নয়ছয় নিয়ে তদন্ত কমিটি আজ শনিবার(১১ জানুয়ারি)সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্ণীতি নিয়ে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।
চলমান ও কাজ শেষ হওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে-লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, মুরাদপুর ফ্লাইওভার, কদমতলী ফ্লাইওভার,নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকল্প(মেগাপ্রকল্প),কালুরঘাট- চাক্তাই রিং রোড প্রকল্প,বাকলিয়া এক্সেস রোড, চিটাগং সিটি আউটার রিং রোড, সিডিএ স্কয়ার(বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প),দেওয়ানহাট কল্পতরু(বহুতল আবাসন নির্মাণ প্রকল্প), সল্টগোলা ডরমিটরী,চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাষ্টারপ্ল্যান ও বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্প।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব রবীন্দ্র চাকমা,বোর্ড সদস্য স্থপতি সৈয়দা জারিনা হোসাইন ও এডভোকেট সৈয়দ খুদরত আলী।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন আলোচিত ও সমালোচিত দু’টি মেগাপ্রকল্পে সবচেয়ে বেশী দুর্ণীতির নজীর রয়েছে। এ প্রকল্প দু’টি নিয়ে দেশের প্রিন্টিং মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো বরাবরে সোচ্চার ছিলেন। প্রকল্প দুটি হচ্ছে- লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকল্প। এ প্রকল্প দু’টিতে অর্থ বরাদ্ধ অনুপাতে কাজের তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। বরংবার সংশোধীত ডিপিপি অনুমোদন করে অর্থ বাড়ানো ও ইচ্ছকৃতভাবে সময় ক্ষেপন করা হয়েছে।
লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিছমিল্লায় গলদ হয়েছিল। ওই সময় কাজটির টেন্ডারে সর্বনিম্ম দরদাতা নির্বাচিত হয়েছিল চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুছ সালাম ও প্রকল্প কর্মকর্তা কুটকৌশল করে বাদ দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স এর মালিকের সাথে বিপুল অংকের অর্থের আতাঁত করে কাজটি পাইয়ে দেয়। যা নথি পর্যালোচনা করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। শুধু তাই নয়,সংশ্লিষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তাকে ঠিকাদার কর্তৃক স্ত্রী, উপসচিব তারেক শিমুল ও তার স্ত্রীকে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ী দিয়ে ম্যানেজ করেন। সম্প্রতি তাদের নিয়ে দি ক্রাইম পত্রিকায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তারেক শিমুল গাড়ি দু’টি ফেরত দিয়ে দেয় এবং প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এদিকে চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড এর প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস তদন্ত কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তদন্ত কমিটির সম্মুখে উপস্থিত না হওয়ায় অতিরিক্ত যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মূলত এ কর্মকর্তা সিডিএতে সীমাহীন দুর্ণীতি ও অনিয়মে জড়িত।তার কারণে প্রকৌশল বিভাগটি ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। তার আস্কারায় অন্যান্য প্রকৌশলীরা অফিস শৃংখলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে সিনিয়রদের অপমান ও অপদস্ত করতেও দেখা গেছে।
লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে আলোকিত করার জন্য ১৩শ’ এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। তৎমধ্যে একটি লাইটসহ খাম্বার দাম পরিশোধ করেছে দুই লাখ টাকা।মোট মূল্য দাড়ায় দু’কোটি ৬০ লাখ টাকা।জয়েন্ট এক্সপেনশন লাগানো হয়েছে ৩৯৫টি।যার পরিমাণ ৬ হাজার রানিং মিটার।প্রতি মিটারের মূল্য ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার টাকা। মোট গড় মুল্য দাড়ায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এলইডি লাইটের মূল্য পরিশোধ করেছে বিপিডিবিকে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তার।
এ দুই পণ্যের গুনগত মান এবং মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান, অনুমোদিত ডিপিপির রেইড কোড অনুযায়ী উল্লেখ্য পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে আমার কোন হাত নেই বা আমি কোন দুর্ণীতির সাথে জড়িত নই।
এ ব্যাপারে বিপিডিবির জনৈক প্রকৌশলীকে উল্লেখ্য পণ্য দু’টির গুণগত মান ও মূল্য এত বেশী কেন জিজ্ঞাসা করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, “সরকার মে মাল দরিয়া মে ঢাল”এ রুপ অবস্থা আর কি।




