চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কুৎসা রটানো ও টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মাসুদ (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ সাফিয়া তাজুল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে সাফিয়া তাজুল উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মাসুদ তাদের একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা। পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে আসছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে অভিযুক্ত মাসুদ প্রতিবেশী সোহেলের স্ত্রীর সঙ্গে আরেক প্রতিবেশী নকুল বিশ্বাস কে জড়িয়ে এলাকায় মিথ্যা কথা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। পরে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে নকুল বিশ্বাসের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাদীর স্বামী অভিযুক্তের কাছে টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাদীর স্বামী অভিযুক্তকে প্রতিবেশী সোহেলের স্ত্রী ও নকুল বিশ্বাসকে নিয়ে আর কোনো কুৎসা না রটানোর জন্য বলেন। এ সময় অভিযুক্ত মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে বাদীর স্বামীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ।
স্বামীর ডাক-চিৎকার শুনে সাফিয়া তাজুল এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাদের চিৎকার শুনে সাক্ষী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
অভিযোগকারীর দাবি, চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে তাদের খুন ও জখম করার হুমকি দেন। পরে বাদী ও তাঁর স্বামী ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া অভিযুক্ত পক্ষ যে কোনো সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মাসুদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।




